পশ্চিমা প্রোপাগান্ডার ব্যর্থতা ও মুসলিম জনসংখ্যার উত্থান
এলন মাস্ক সম্প্রতি বৈশ্বিক জনসংখ্যা হ্রাসের উপর উদ্বেগ প্রকাশ করে এটিকে মানবতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তার এই মন্তব্য এক গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাকে তুলে ধরে, যেখানে অনেক দেশের জন্মহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। জাপান, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, এবং জার্মানির মতো দেশগুলোতে জন্মহার স্থিরভাবে নিম্নগামী। উদাহরণস্বরূপ, জাপানে প্রতি মহিলার সন্তান জন্মদানের হার বর্তমানে ১.৩ এর নিচে, যা জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ২.১ হারের চেয়ে অনেক কম। এলন মাস্ক একটি গ্রাফ শেয়ার করেছেন যেটি ২০১৮ থেকে ২১০০ সালের মধ্যে নাইজেরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানের মতো প্রধান দেশগুলোর জনসংখ্যার পরিবর্তনের পূর্বাভাস দেখিয়েছে, যা আসন্ন জনমিতিক পরিবর্তনগুলোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রচার চালিয়ে আসছে। এসব প্রচারণা প্রায়শই উন্নয়ন, নারী স্বাধীনতা এবং পারিবারিক পরিকল্পনার নামে করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সন্তান জন্মদান এবং পরিবার গঠন একটি পবিত্র দায়িত্ব। মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনার এসব পশ্চিমা ধারণা পুরোপুরি গৃহীত হয়নি।
যদিও কিছু ক্ষেত্রে কিছু মুসলিম দেশ জন্মহারের হ্রাসের মুখোমুখি হয়েছে, বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনসংখ্যা বাড়ছেই। ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১.৯ বিলিয়ন এবং ২০৭৫ সালের মধ্যে এটি ৩ বিলিয়নে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে জন্মহার এখনও তুলনামূলকভাবে উচ্চ।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের বিশ্বের দ্রুততম ক্রমবর্ধমান ধর্ম সম্পর্কে রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্বের মুসলিম জনসংখ্যা আগামী ৩৫ বছরে প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে এবং ২০৬০ সালের মধ্যে এটি ৩ বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে, যা ইসলামকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ধর্মে পরিণত করবে।বাবা ভাঙ্গার মতে, ২০৪৩ সালের মধ্যে ইউরোপ প্রধানত ইসলামীক হয়ে উঠবে।
এর ফলে পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁদের পলিসি তাদেরই ভোগাবে। এলন মাস্কের মতো অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও এখন বুঝতে পারছেন যে জনসংখ্যার পতন একটি গুরুতর বৈশ্বিক সমস্যা।
মুসলিম সম্প্রদায় তাদের ঐতিহ্য এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি অনুগত থেকে একটি শক্তিশালী জনমিতিক কাঠামো বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে যে কোনও ধর্ম বা সম্প্রদায়, তাদের নিজস্ব চেতনায় দৃঢ় থাকলে, বাইরের প্রভাব এড়িয়ে নিজেদের পথ তৈরি করতে পারে।

Mazharul Islam,
Corporate Legal Practitioner,
Member of Harvard Business Review Advisory Council.
He can be reached at mazhar@insightez.com
